পশুখাদ্যে সয়াবিন খৈলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে আগামী ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) চীন আরো বেশি পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে চীনের সয়াবিন আমদানি ১০ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। যা ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষের পূর্বাভাসের চেয়ে ২০ লাখ টন বেশি। ২০২৫ সালে সয়াবিনের দাম কম থাকায় পশুখাদ্য তৈরিতে এর ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষ খাতে সয়াবিন খৈলের শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হয়েছে।
চীনের বাজারে মার্কিন সয়াবিন আমদানিতেও নতুন গতি দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাল্টাপাল্টি শুল্ক বা বাণিজ্যিক বাধা স্থগিত রাখার বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরপরই চীন পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা শুরু করে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীন ১ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি বা ক্রয় সম্পন্ন করেছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন সয়াবিনের প্রতি চীনের এ আগ্রহ বাড়তে শুরু করে।
চীন বর্তমানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সয়াবিন উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। ফলন বাড়ানো ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনে দেশটি গবেষণা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেয়া অব্যাহত রেখেছে। সরকারের এ ধরনের নীতিগত সহায়তার ফলে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে চীনের অভ্যন্তরীণ সয়াবিন উৎপাদন ২ কোটি ২ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।